গরমে তৈলাক্ত ত্বক সুন্দর রাখার ১০টি টিপস

গরমে আমাদের ত্বকে অনেক সমস্য দেখা যায়। রোদের কারনে আমাদের ত্বক ঘেমে কালচে হয়ে যায়। এই কারনে আমাদের ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়। আর তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নেওয়া আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়।

গরমে তৈলাক্ত ত্বক সুন্দর রাখার ১০টি টিপস
গরমে তৈলাক্ত ত্বক সুন্দর রাখার ১০টি টিপস

কারণ, এই সময়ে আমাদের ত্বক সাধারণত বেশি তেল উৎপাদন করে ফেলে। ঘামের সাথে বাইরের ময়লা মিশে ত্বকে জমে গিয়ে নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। যার ফলে ত্বক সেনসিটিভ হয়ে যায়, এই সময় ত্বকের যত্ন নিতে হয়।

ত্বকে র‍্যাশ, ব্রণ, লালচে ভাব সহ নানা এলার্জির সমস্যা দেখা দেয়। এই গরমের সময় ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে। আমার এই পোস্টে কিছু কার্যকর পরামর্শ দেওয়া হলো, যা অনুসরণ করলে গরমে তৈলাক্ত ত্বক সুন্দর রাখতে পারবেন।

Table of Contents

সেরা ১০ উপায়ে তৈলাক্ত ত্বক সুন্দর রাখার উপায়ঃ

১. নিয়মিত ত্বক ক্লিনজিং

নিয়মিত তৈলাক্ত ত্বকে ক্লিনজিং হচ্ছে সুন্দর ত্বকের জন্য একটি অপরিহার্য ধাপ। গরমের সময় আমাদের ত্বকে অতিরিক্ত তেল ও ময়লা জমে লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। এই সময় আমাদের ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়।

image

বন্ধ হওয়া লোমকূপ থেকে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস, এলার্জি এবং অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি হয়। যা আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলে। তাই ত্বক সুন্দর রাখতে দিনে কমপক্ষে দু’বার ত্বক পরিষ্কার করা দরকার।

ক্লিনজিংয়ের জন্য আপনি সর্বপ্রথম মাইল্ড এবং ত্বক অনুযায়ী ক্লিনজার নির্বাচন করুন। এটি আপনার ত্বকের তেলকে সংরক্ষণ করে, আর আপনার ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করবে না। ত্বক ধোয়ার সময় ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

আর ভালো ফলাফল পেতে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। ঠান্ডা পানি আমাদের ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করতে পারে। আর অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়।

ত্বক পরিষ্কার করার সময় পুরো মুখ হালকা ভাবে ক্লিনজার ম্যাসাজ করতে হবে। এটি আমাদের ত্বকের লোমকূপে থাকা অতিরিক্ত তেল এবং ময়লা বের করে ত্বককে সুন্দর রাখে। ত্বক সুন্দর রাখতে ত্বকের যত্ন নিতে হবে।

কমপক্ষে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বক ক্লিনজিং করা উচিত। সকালে ক্লিনজিং করার ফলে জমে থাকা তেল ও ময়লা পরিস্কার হবে এবং আপনার ত্বককে দিনের শুরুতে সুন্দর রাখবে।

সারা দিনে বাইরের ধুলোবালি ও ত্বকে জমে থাকা ময়লা দুর করতে রাতে ক্লিনজিং করতে হবে।

২. ত্বকের অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার

ত্বকের সব ধরনের সমস্যার অন্যতম কারন তৈলাক্ত ত্বক। এই তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে আমাদের মধ্য অনেকেরই একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে ভাবেে এরকম ত্বকে ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন নেই।

image 1

অনেকে মনে করেন, ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত তাই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক আরও তৈলাক্ত হবে। কিন্তু বাস্তবে এটি ত্বকের জন্য অনেক ক্ষতিকর হতে পারে। 

তৈলাক্ত ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই অনেকটা আর্দ্র থাকে। তারপরেও এটিতে ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন হয়। কারণ, আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা ও তেলের মধ্যে অনেকটা পার্থক্য রয়েছে।

আমাদের ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা অথবা পানি থাকা খুবই প্রয়োজন। যা ফলে ত্বক কোমল, মসৃণ এবং সুস্থ সুন্দর থাকে। আর এই আর্দ্রতাকে ধরে রাখার জন্য ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন হয়।

যখন আপনার ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে, তখন আরও তেল উৎপাদন করে। যার ফলে আর্দ্রতার অভাব পূরণ করতে পারে।

এসব কারনে ত্বক আরও বেশি তৈলাক্ত হয়ে যায়। আর এ কারনে ত্বকে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস এলার্জি ও অন্যান্য ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়।

এসব দিক বিবেচনা করে আমাদের অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। এই অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ত্বকের লোমকূপ বন্ধ না করেই ত্বকের পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখে। এর ফলে ত্বক হাইড্রেটেড থাকে আর অতিরিক্ত তেল উৎপাদন হতে পারে না।

ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও আমাদের ত্বককে নরম ও মসৃণ ও সুন্দর রাখে। এটি ব্যবহারে ত্বক অস্বস্তি মুক্ত থাকে যা আপনার ত্বককে উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যবান করে তুলে।

বর্তমানে অনেক অসাধু ভালো প্রডাক্ট দেয় না। তাই ত্বকের সাথে মানানসই ও ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখে এমন অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন করুন। গ্লিসারিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার আমাদের ত্বককে ভিতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে।

এছাড়াও এটি আমাদের ত্বকের পোরসগুলিকে বন্ধ করা ছাড়াই ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। 

৩. দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন

image 2

রোদে গরমের দিনে বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। এটি আপনার ত্বকের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। দিনের বেলায় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য মারাক্তক ক্ষতিকর।

আপনি যখন অনেক সময় ধরে সূর্যের সংস্পর্শে থাকেন, তখন আপনার ত্বকের উপর প্রভাব পড়ে। সূর্যের রশ্মিগুলো ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে আপনার ত্বকের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এছাড়াও এটি ত্বকের প্রাকৃতিক প্রোটিন ভেঙে দিতে পারে। এই কারনে ত্বকে বলিরেখা, রোদে পোড়া দাগ, পিম্পল এবং অন্যান্য লক্ষণ সৃষ্টি করে।

তাছাড়াও সূর্যের UV রশ্মির দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শে আপনার ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব কারনে ত্বককে রক্ষা করার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অতি জরুরি।

প্রধানত আমাদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সঠিক সানস্ক্রিন নির্বাচন করতে হবে। অনেকেই মনে করেন সানস্ক্রিন তাদের ত্বককে আরও তেলতেলে ও ভারী করে তুলবে। কিন্তু তা নয়, সানস্ক্রিন ছাড়া বাইরে গেলে ত্বকের আরো বেশি ক্ষতি হয়।

বর্তমানে বাজারে অনেক ধরনের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এই সানস্ক্রিনগুলো সাধারণত মাটিফায়িং বা অয়েল-কন্ট্রোল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হয়। এটি আমাদের ত্বকে একটি ম্যাট ফিনিশ দেয়। আর ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমিয়ে দেয়।

সানস্ক্রিন নির্বাচনের সময় দেখতে হবে, সূর্য সুরক্ষা ফ্যাক্টর (SPF) কমপক্ষে ৩০ বা তার বেশি হয়। SPF সূর্যের রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা করতে পারে।

আপনাকে ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন বেছে নিতে হবে। এটি আপনাকে UV-A এবং UV-B উভয় ধরনের রশ্মি থেকে ত্বকের সুরক্ষা দিবে।

এছাড়াও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল বা লোশন ভিত্তিক সানস্ক্রিন নির্বাচন করতে পারেন। এটি দ্রুত শোষিত হয় এবং আপনার ত্বকে ভারী ভাব আসতে দেয় না।

এসব ছাড়া কিছু সানস্ক্রিন আছে, যাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান থাকে। যা আপনার ত্বকের ফ্রি র‍্যাডিকালগুলির ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

এই সানস্ক্রিন নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রয়োগ করতে হবে। বাইরে যাওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে, যার কারনে এটি আমাদের ত্বকে ভালোভাবে শোষিত হবে।

এছাড়া আপনি যদি দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন অতিরিক্ত ঘামেন, তাহলে দুই ঘন্টা পরপর পুনরায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। 

নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ত্বক সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা পাবে। ত্বক সুরক্ষিত থাকবে, ত্বকে তেল কম জমবে। এছাজাও সানস্ক্রিন ব্যবহারে উজ্জ্বল, স্বাস্থ্যকর এবং সুরক্ষিত সুন্দর ত্বক পাবেন।

তাই গরমের দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, যেটি আপনার ডেইলি স্কিনকেয়ার এর পাশাপাশি ত্বককে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুরক্ষিত এবং সুন্দর করবে।

৪. ত্বকের যত্নে টোনার ব্যবহার

ত্বকের যত্নে একটি প্রয়োজনীয় ধাপ টোনার। যখন আপনার ত্বক তৈলাক্ত থাকে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। টোনার আপনার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সহায়তা করে।

image 3

এছাড়াও ত্বকের লোমকূপ সংকুচিত করতে সহায্য করে। আমাদের তৈলাক্ত ত্বককে ফ্রেশ রাখে এবং তেলতেলে ভাব দুর করে।

আমাদের ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এটি ত্বকের সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি অন্যতম অংশ। যখন আমাদের ত্বকের পিএইচ লেভেল ঠিক থাকে, তখন ত্বক নিজেই ব্যাকটেরিয়া, দূষণ ও অন্যান্য সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

এই পিএইচ লেভেল বিঘ্নিত হলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়াও ত্বক অতিরিক্ত তেল উৎপাদন শুরু করে, লোমকূপগুলো প্রসারিত করে, এবং ত্বকে ব্ল্যাকহেডস, ব্রণ এলার্জী ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়।

এসব সমস্যা ও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টোনার খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এই টোনার বেছে নেওয়ার সময় অবশ্যই অ্যালকোহল ফ্রি কিনা খেয়াল রাখতে হবে।

অ্যালকোহলযুক্ত টোনার ব্যবহারে ত্বক অস্থায়ীভাবে তেলমুক্ত করে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি ত্বককে শুষ্ক করে তোলে এবং পরে আরও বেশি তেল উৎপাদন করে।

অ্যালকোহল-ফ্রি টোনার ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় থাকে। এটি লোমকূপগুলোক সংকুচিত করে আর ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে আনে। যার ফলে আমাদের ত্বক সুন্দর থাকে।

টোনার ব্যবহার করলে আপনার ত্বক সতেজ থাকবে। আপনার ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করবে। আর মেকআপ ক্ষতিকর উপাদানগুলো পরিষ্কার করবে।

এক কথায় আপনার ক্লিনজিং রুটিন থেকে বাদ পড়া সকল সমস্যার সমাধান করবে। এই টোনার ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ও অন্য সব স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টের জন্য তৈরি করে।

এই টোনারকে আপনি আপনার দৈনন্দিন স্কিনকেয়ার রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। ক্লিনজিংয়ের পর একটি কটন প্যাডে সামান্য টোনার নিয়ে আপনার মুখ ও গলায় আলতোভাবে লাগাবেন।

এটি ত্বকের টি-জোন এলাকায় প্রয়োগ করুন। আপনি চাইলে টোনার স্প্রে ফরমে ব্যবহার করতে পারবেন। টোনার ব্যবহারে ত্বক ইনস্ট্যান্ট ফ্রেশনেস করে আর অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. ফেস মাস্ক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার।

ফেস মাস্ক ব্যবহার করা হলো আমাদের ত্বকের যত্নের গুরুপ্তপূর্ন ধাপ। এটি ত্বকের গভীর পর্যন্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ফেস মাস্ক সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে হবে।

image 4

সাধারনত গরমের দিনে যখন আমাদের তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত তেল, ময়লা ও দূষণ জমে, তখন ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

এই ফেস মাস্ক ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল করে। এই মাস্কগুলো ত্বকের লোমকূপের গভীরে প্রবেশ করে ত্বকে জমে থাকা ময়লা ও তেল শোষণ করে আমাদের ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ক্লে বা চারকোল মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এই মাস্ক ব্যবহারের ফলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে এবং ত্বককে পরিপাটি রাখতে সাহায্য করে।

ক্লে মাস্ক ব্যবহারে ত্বকের গভীরে থাকা অমেধ্য বের করে লোমকূপগুলো পরিষ্কার করে, যার ফলে ত্বক দেখতে মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়।

এছাড়াও চারকোল মাস্কও ব্যবহার করতে পারেন। এই মাস্ক চারকোলের ডিটক্সিফাইং প্রভাবের দ্বারা ত্বক থেকে দূষিত পদার্থ এবং টক্সিন বের করে ত্বককে সুন্দর রাখে।

ফেস মাস্ক প্রয়োগের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তারপর মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, তাহলে মাস্কটি ত্বকের গভীরে কাজ করতে পারবে। নির্দেশনা অনুযায়ী এই মাস্ক ব্যবহার করুন। নির্দেশনা না থাকলে ১০-১৫ মিনিট রাখুন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

খুব বেশি মাস্ক ব্যবহার করবেন না। কারন অতিরিক্ত মাস্ক ব্যবহারে ত্বকের প্রাকৃতিক তেলও শুষে নিতে পারে। যার কারনে ত্বক শুষ্ক ও অস্বস্তিকর হতে পারে।

ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে এক থেকে দুইবার মাস্ক ব্যবহার করা উত্তম। ত্বকের যত্ন নিলে মসৃণ, পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল থাকবে।

৬. পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান

পানি আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি উপাদান। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যর জন্য পানি গুরুপ্তপূর্ন। বিশেষ করে আমাদের ত্বকের জন্য পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যখন গরমের দিনে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম বের হয়।

image 5

পানি আমাদের তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি ত্বককে গভীর থেকে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার ফলে ত্বকের কোষগুলো হাইড্রেটেড থাকে, তাই ত্বককে কোমল, মসৃণ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

গরমের দিনে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারনে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি বের হয়ে। পানি পান করার মাধ্যমে শরীরের পানির অভাব পূরন করতে হয়। শরীরের এই পানির অভাব পূরণ না হলে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যায় আর ত্বককে নিষ্প্রাণ ও ক্লান্ত দেখায়।

আমাদের ত্বকের এই ডিহাইড্রেশন ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারনেও হতে পারে। সমস্যা গুলোর মধ্যে ত্বকের রুক্ষতা, ফাটল, এবং ফাইন লাইনের মতো হতে পারে।

পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করলে, ত্বকের কোষগুলো সঠিকভাবে কাজ করার পাশাপাশি ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখতে সহায়তা করে।

পানি আমাদের ত্বক থেকে টক্সিন নামক উপাদান দূর করে। যা আমাদের ত্বকের জন্য এক ধরনের ডিটক্সিফিকেশন হিসেবে কাজ করতে থাকে।

শরীর যখন পর্যাপ্ত পরিমান পানি পায়, তখন ত্বক থেকে টক্সিন এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থ বের করে ফেলে। যা ত্বককে স্বাস্থ্যবান ও উজ্জ্বল রাখতে কাজ করে।

পানি ত্বকের রক্তসঞ্চালন উন্নত করার পাশাপাশি ত্বককে আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তুলে। এছাড়াও, পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান, ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার ক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বককে ভিতর থেকে মসৃণ এবং নরম করে তুলে।

সুস্থ, সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ত্বক পেতে দৈনিক ৮ গ্লাস পানি পান করাতে হবে। আপনি যদি অনেক সময় বাইরে কাটান অথবা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে চান তাহলে আরও বেশি পরিমান পানি পান করতে হবে।

আপনার খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, শসা, তরমুজ, স্ট্রবেরি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করুন। এগুলো ত্বকের হাইড্রেটেড ধরে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করে।

সুতরাং ত্বককে ভিতর থেকে সুন্দর ও উজ্জ্বল রাখতে প্রচুর পরিমান পানি পান করার অভ্যাস করুন। এটি ত্বককে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যখন আপনার ত্বক ভিতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে, তখন প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর, মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাবে। যা আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সুস্থতার প্রতিফলন ঘটবে। তাই সুস্থ থাকতে প্রচুর পরিমান পানি পান করতে হবে।

৭. মেকআপ ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে

কমবেশি সবাই মেকআপ ব্যবহার করি। আর বাজারে বিভিন্ন ধরনের মেকআপ পাওয়া যায়। আমাদের তৈলাক্ত ত্বকের মেকআপের ক্ষেত্রে সঠিক প্রোডাক্ট বেচে নিতে হবে।

image 6

কারণ, ভুল মেকআপ ব্যবহার করলে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। যা থেকে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস, এলার্জি এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই, মেকআপ করার সতর্ক থাকতে হবে। সবসময় হালকা এবং ত্বক-বান্ধব প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হবে। এটি আমাদের ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে পারে এছাড়াও ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করতে দেবে না।

বাজারে ভেজাল পন্য বিক্রি হয়, তাই দেখেশুনে মেকআপ কিনতে হবে। অয়েল-বেসড মেকআপ এড়িয়ে চলতে হবে। অয়েল-বেসড পণ্য আমাদের ত্বক আরও তৈলাক্ত করে তোলে।

ফলে আমাদের লোমকূপ বন্ধ করে দেয়, যা ত্বকের স্বাস্থ্যকে নষ্ট করে ফেলে। তাই অয়েল-ফ্রি এবং নন-কমেডোজেনিক প্রোডাক্ট নির্বাচন করতে হবে, যা ত্বককে নিঃশ্বাস নিতে দেয় এবং লোমকূপ বন্ধ করতে পারেনা।

নন-কমেডোজেনিক প্রোডাক্টগুলো অনেক ভালো মানের হয়, যা ব্যবহারে লোমকূপে ময়লা জমাট বাধেঁনা ও তেল জমে না। যার ফলে ত্বকে ব্রণ ও কোন সমস্যা দেখা দেয় না।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা মেকআপ ব্যবহার করা উচিত। ভালো মানের হালকা ফাউন্ডেশন, টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার বা বিউটি বাম (BB) ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণ ও সুন্দর দেখাবে।

এই পণ্যগুলো ত্বকের টোনকে সমান করে এবং হালকা কভারেজ দেয়। যার ফলে আমাদের ত্বক প্রাকৃতিক ও সতেজ দেখায়।

আপনি চাইলে ম্যাট ফিনিশের পাউডার বা সেটিং পাউডার ব্যবহার করতে পারেন, যা দ্বারা আপনার ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ হয়। আর মেকআপকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। 

মেকআপ প্রয়োগের আগে অবশ্যই একটি ভালো প্রাইমার ব্যবহার করা উচিত । তেল নিয়ন্ত্রণকারী প্রাইমার ত্বককে মেকআপের জন্য সুন্দরভাবে প্রস্তুত করে, ফলে লোমকূপ গুলোকে ছোট দেখায়। এছাড়া মেকআপকে সারা দিন এক জায়গায় ধরে রাখে।

প্রাইমার ত্বকের পৃষ্ঠে তেল তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে, যেটি ত্বক থেকে তেলকে মেকআপের সাথে মিশতে দেয় না। যার ফলে মেকআপকে আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং মসৃণ দেখায়।

মেকআপ তোলার সময়ও অনেক যত্নবান হওয়া উচিত। মেকআপ পরিষ্কার করার জন্য একটি জেন্টল, অয়েল-ফ্রি ক্লিনজার ব্যবহার করুন। এটি ত্বক থেকে সমস্ত মেকআপ ও ময়লা সুন্দরভাবে পরিষ্কার করবে। এছাড়া ত্বকের লোমকূপকে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে।

পরিশেষে, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মেকআপ করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়াও প্রোডাক্ট বাছাই ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বিশেষ করে হালকা, অয়েল-ফ্রি এবং নন-কমেডোজেনিক মেকআপ ব্যবহার করলে ত্বকের কোন সমস্যা হবে না। ফলে আপনার ত্বক থাকবে তেলমুক্ত, ফ্রেশ এবং উজ্জ্বল।

৮. সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

image 7

সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য আমাদের দেহ গঠনে সহায়ক। সঠিক খাদ্য গ্রহনে সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে পারেন। আমরা প্রতিদিন যেসব খাদ্য গ্রহন করি তা সরাসরি আমাদের ত্বকের উপর প্রভাব ফেলে।

আমাদের খাদ্যাভ্যাসের কিছু পরিবর্তন করতে পারলে, ত্বকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। 

আমরা সচরাচর তৈলাক্ত খাবার খাই, এই ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার ত্বকের জন্য উপকারী নয়। এ ধরনের খাবার ত্বকের তেল গ্রন্থিকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে তোলে, ফলে আমাদের ত্বকে বেশি তেল উৎপন্ন হয়।

এই কারনে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ত্বকে ব্রণ ও অন্যান্য ত্বকের সমস্যার বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও চিনিযুক্ত খাবার শরীরে ইনফ্লেমেশন বাড়িয়ে ফেলে। যা ত্বকে ব্রন, মেসতা ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুতরাং আমাদের খাদ্য তালিকা থেকে এই ধরনের খাবার কমিয়ে আনতে হবে। ফ্রেস ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে হবে।

তাজা ফলমূল ও শাকসবজি ত্বকের জন্য গুরুপ্তপূর্ন ভূমিকা রাখে। এসব খাদ্যে থাকা প্রাকৃতিক ভিটামিন, মিনারেল, এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের স্বাস্থ্যকে সুন্দর রাখে এবং ত্বকে ভিতর থেকে পুষ্টি জোগায়।

তাজা ফলমূল যেমন লেবু, পেপে, পেয়ারা, বেরি, আপেল, কমলা, এবং তরমুজে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা ত্বককে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও তাজা থাকে।

শাকসবজির মধ্যে হচ্ছে টমেটো, পালংশাক, ব্রকলি, এবং গাজরে প্রচুর ভিটামিন সি, ই এবং বিটা-ক্যারোটিন থাকে। যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে এবং ত্বককে সতেজ রাখে।

পুষ্টিকর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ, এবং মাছ (বিশেষ করে স্যামন এবং টুনা) স্বাস্থের জন্য উপকারি। এসব খাবারে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

এটি ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে যা তৈলাক্ত ত্বকের জন্যও অনেক প্রয়োজনীয়।

পরিশেষে, ত্বককে তেলমুক্ত, স্বাস্থ্যকর এবং উজ্জ্বল রাখার জন্য আমাদের খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হওয়া উচিত। ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

তাজা ফলমূল, শাকসবজি এবং পুষ্টিকর খাবার বেশি করে খেতে হবে। তাহলে শুধু বাহ্যিক উন্নতি নয়, ভিতর থেকে আপনাকে সুস্থ, সুন্দর ও উজ্জ্বল করে তুলবে।

৯. ঘন ঘন মুখ স্পর্শ করবেন না

অনেকে আছে বার বার মুখে হাত বুলায়, মুখে বারবার হাত দেওয়া একটি অভ্যাস হয়ে যায়। যা ত্বকের জন্য মারাক্তব ক্ষতি করতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অনেক সময় আমরা নিজের অজান্তেই অনেকবার মুখ স্পর্শ করি, কিন্তু এই অভ্যাসটি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে।

image 8

সারাদিন অমরা বিভিন্ন জিনিস হাত দিয়ে স্পর্শ করে থাকি। যেমন ঘরের বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র, দরজার হাতল, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ইত্যাদি জিনিস। এই সব জায়গাগুলোতে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া, ধুলো-ময়লা থাকে, যা আমাদের হাতের মাধ্যমে মুখে স্থানান্তরিত হতে পারে।

আপনি যখনই মুখ স্পর্শ করবেন তখন এই ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া ত্বকের লোমকূপে প্রবেশ করতে পারে আর তখন লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। আর এ কারনে আপনার ত্বকে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস, এলার্জি ও অন্যান্য ত্বকের সমস্যা হতে পারে।

তৈলাক্ত ত্বকে যেখানে লোমকূপগুলি প্রাকৃতিকভাবেই বড় ও বেশি তেল উৎপাদন করে, সেখানে হাতের ময়লা ও তেল ত্বকের জন্য খারাপ প্রভাব ফেলবে।

আপনি যখনই মুখে হাত দিবেন, তখনই ত্বকের উপর অতিরিক্ত তেল যোগ হবে। যা আপনার ত্বককে আরও বেশি তেলময় করে তোলে এবং ব্রণের ঝুঁকি বাড়ায়।

এছাড়াও বার বার মুখে হাত দেওয়ার ফলে ত্বকে অস্বস্তি এবং ইনফ্লেমেশনও সৃষ্টি হতে পারে, যা ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যকে ব্যাহত করে ফেলে।

মুখে হাত দেওয়ার অভ্যাস থেকে ত্বকের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। যার কারনে ত্বকে ফাইন লাইন এবং বলিরেখার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এই অভ্যাসটির কারনে শুধুমাত্র ত্বকের তেল এবং ময়লা বাড়ায় না। বরং এটি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতাও ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। 

তাই আপনার হাত সবসময় পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করুন। নিয়মিত স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে হাত থেকে মুখে ব্যাকটেরিয়া ও ময়লা স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। 

এছাড়া মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চললে, আপনার ত্বকের অপ্রয়োজনীয় তেল, ময়লা এবং ব্রণের ঝুঁকি কমবে। আর আপনার ত্বক থাকবে আরও পরিষ্কার, মসৃণ এবং স্বাস্থ্যবান।

১০. রাতে ত্বকের সঠিক যত্ন

রাতে অনেকেই ত্বকের যত্ন নেয় না। রাতের ঘুমানোর আগে আমাদের ত্বক তার পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া শুরু করে। সারাদিনের পরিশ্রম, ক্লান্তি, দূষণ ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রাতে ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

image 9

রাতে ত্বকের যত্ন নিতে কিছু নিয়ম অনুসরন করতে হবে।

  • অনেকে দিনে মেকআপ ব্যবহার করে, সারাদিনের এই জমে থাকা মেকআপ, ময়লা ও তেলের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে একটি মাইল্ড মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করবেন। এটি ত্বককে ভালোভাবে শ্বাস নিতে এবং পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত করে। এরপর একটি ভালো ক্লিনজার দিয়ে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। এটি আপনার ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা দূর করে, ত্বককে সতেজ করে তুলবে।

  • ক্লিনজিংয়ের পর একটি ভালো মানের অ্যালকোহল-মুক্ত টোনার ব্যবহার করা উচিত। টোনার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রেখে পোরগুলোকে টাইট করে এছাড়া ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে। তারপর একটি উচ্চমানের সিরাম ব্যবহার করুন যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে তুলে। অ্যান্টি-এজিং বা হাইড্রেটিং সিরাম রাতে ভালো কাজ করে, ফলে ত্বকের ফাইন লাইন ও বলিরেখা কমে যায়।

  • ঘুমানোর আগে একটি ভালো মানের নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন। নাইট ক্রিম ত্বকের পুষ্টি জোগায় এবং সারারাত ধরে ত্বকে হাইড্রেটেড রাখে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী নাইট ক্রিম নির্বাচন করতে হবে। আমাদের চোখের চারপাশের ত্বক খুবই সংবেদনশীল, তাই একটি বিশেষ আই ক্রিম ব্যবহার করবেন যা ডার্ক সার্কেল, পাফিনেস এবং ফাইন লাইন কমাতে সাহায্য করবে।

  • আমাদের ঠোঁটের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো মানের লিপ বাম ব্যবহারের ফলে ঠোঁটকে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে। এছাড়া ঠোঁটকে নরম রাখবে। এছাড়াও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে, কারণ পর্যাপ্ত ঘুম ত্বকের পুনর্জন্ম প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। একজন মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।

রাত্রিকালীন ত্বকের যত্ন মেনে চললে আপনার ত্বক হবে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর। তাই নিয়মিত এই রুটিন পালন করতে হবে. তাহলে আপনার ত্বকের উন্নতি হবে।

প্রশ্নোত্তর জেনে নিন

১. গরমে তৈলাক্ত ত্বক বেশি সমস্যা করে কেন?

গরমের সময় ঘাম ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ করে। ফলে ত্বক চকচকে দেখায়, রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডস বেড়ে যায়। তাই গরমকালে তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

২. গরমে তৈলাক্ত ত্বক পরিষ্কার রাখার সেরা উপায় কী?

দিনে অন্তত দু’বার হালকা ফোমিং বা জেল-ভিত্তিক ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া উচিত। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর হয় এবং রোমকূপ বন্ধ হয় না। কখনোই ঘন ঘন সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে আরও বেশি তেল উৎপন্ন করে।

৩. গরমে কি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা দরকার?

হ্যাঁ, তৈলাক্ত ত্বকের জন্যও হালকা ও অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার দরকার। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার গরমের জন্য উপযুক্ত।

৪. তৈলাক্ত ত্বকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত কি না?

অবশ্যই করা উচিত। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-বেসড বা ম্যাট-ফিনিশ সানস্ক্রিন সবচেয়ে ভালো। এটি রোদে ত্বকের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বককে তৈলাক্ত না দেখিয়ে সুরক্ষা দেয়। বাইরে যাওয়ার ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।

৫. গরমে তৈলাক্ত ত্বকে ঘরোয়া যত্নের উপায় কী হতে পারে?

অ্যালোভেরা জেল, শসার রস, গোলাপ জল ও মুলতানি মাটি ব্যবহার করলে ত্বক ঠান্ডা ও সতেজ থাকে। সপ্তাহে ২-৩ দিন মুলতানি মাটি মাস্ক লাগালে ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষিত হয় ও ব্রণ কমে।

৬. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কী ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত?

গরমে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তেলেভাজা, মিষ্টি, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবার ত্বকের তেল নিঃসরণ বাড়ায়। বরং ফল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত পানি খেলে ত্বক স্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল থাকে।

৭. গরমে মেকআপ করলে তৈলাক্ত ত্বক কীভাবে ঠিক রাখা যায়?

তৈলাক্ত ত্বকে হালকা ও নন-কমেডোজেনিক মেকআপ ব্যবহার করা উচিত। মেকআপের আগে প্রাইমার লাগালে ত্বকে তেল কমে। এছাড়া “অয়েল ব্লটিং পেপার” সঙ্গে রাখলে দিনের বেলা সহজেই অতিরিক্ত তেল মুছে ফেলা যায়।

৮. রাতে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন কীভাবে নিতে হবে?

রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে অয়েল-ফ্রি নাইট ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। সপ্তাহে একদিন হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করলে মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বক নিস্তেজ হয় না। ঘুম পর্যাপ্ত হলে ত্বক আরও উজ্জ্বল দেখায়।

৯. ঘাম ও তৈলাক্ত ত্বক একসঙ্গে থাকলে কী সমস্যা হয়?

ঘাম ও তেল মিলে ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দেয়, ফলে ব্রণ, হোয়াইটহেড ও ব্ল্যাকহেডস তৈরি হয়। তাই ঘাম হলে মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে শুকনো কাপড়ে আলতোভাবে মুছে নেওয়া উচিত। কখনোই রুক্ষভাবে ঘষা উচিত নয়।

১০. গরমে তৈলাক্ত ত্বক সুন্দর রাখার সারাদিনের রুটিন কেমন হওয়া উচিত?

  • সকালে হালকা ফেসওয়াশ ও সানস্ক্রিন ব্যবহার
  • দুপুরে মুখ পানি দিয়ে ধোয়া
  • বিকেলে গোলাপ জল বা টোনার লাগানো
  • রাতে ফেসওয়াশ ও অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার
    এই রুটিনে চললে গরমেও ত্বক থাকবে পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও সতেজ।

পরিশেষে

সঠিক নিয়ম মেনে চললে গরমের সময়েও আপনার তৈলাক্ত ত্বক থাককে না। আপনার ত্বক সুস্থ, সতেজ এবং ব্রণমুক্ত থাকবে। আজকাল সবাই একটু সুন্দর ত্বক চায়। তাই সুস্থ ও সুন্দর ত্বক পেতে চাইলে একটু কষ্ট করে উপরের নিয়ম গুলো মানতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top