ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে জানুন ও এর ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়

ঘূর্ণিঝড় একটি আতঙ্কের নাম। যা নদী এলাকার লোকদের জন্য অধিক ভযংকর দুর্যোগ। ঝড় বৃষ্টি আল্লাহর রহমতের মধ্যে একটি। কিন্তুু সবার জন্য এই বৃষ্টি আনন্দের নয়। নদী এলাকার লোকজন বৃষ্টির সময় অনেক ভয়ে দিন কাটায়।

কেননা একটি ঘূর্নিঝড়ে তাদের সর্বস্বান্ত করে দেয়। তাদের মধ্যে অনেকের প্রানহানি হয়। তাই আমাদের ঘূর্নিঝড় মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে হবে।

ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে জানুন ও এর ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায় সমন্ধে বিস্তারিত আলোকপাত করবো।

ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে জানুন ও এর ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়

Table of Contents

ঘূর্ণিঝড় কি? আসুন বিস্তারিত জেনে নেই।

ঘূর্ণিঝড় হলো একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ এর নাম, যা সাম্প্রতিক সময়ে আবারও বিপুল মাত্রায় লোকের জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে। আমাদের সম্পদ ও জানমালের ক্ষতি করতে পারে।

ঘূর্নিঝড় একটি বড় তীব্র চলমান বাতাসের সম্ভাব্য ফলাফল। যা মূলত একটি কণিকা নীচে বেগবান অথবা আন্তর্জালে বাতাসের গতির মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। ঘূর্ণিঝড় এর সময়কাল হচ্ছে মার্চ থেকে নভেম্বর মাস।

ঘূর্নিঝড় প্রবল বাতাসের কণিকা প্রবাহ। এই প্রবাহ সামগ্রিকভাবে ঘূর্ণিঝড়ের আকার ধারণ করে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাতাসের গতির বেগ এতটা শক্তিশালী হয় যা বলার বাইরে।

এই সময় বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, জ্বলন্ত আলো এবং নির্দিষ্ট শক্তির পরিমাণ সহ বিভিন্ন প্রকার আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির কারণ কী?

ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে তাপমাত্রার পার্থক্য। মূলত বাতাসের চলাচলের পরিবর্তন। যখন স্থানীয় বাতাসের উষ্ণতা ও শুষ্কতা একটি স্থানে পাশাপাশি অন্য একটি স্থানের উষ্ণতা ও শুষ্কতার সাথে পার্থক্য সৃষ্টি হয় তখন ঘূর্নিঝড় হয়। এই তাপমাত্রার পার্থক্য বাতাসের চলাচলে মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে।

প্রাকৃতিক ঘর্ষণ বা মঞ্চপথের মধ্যে একটি ক্ষেত্রে উষ্ণ বাতাস যখন উচ্চমাত্রায় উঠে এবং শুষ্ক বাতাস যখন নিচে নেমে যায়, তখন ঘূর্নিঝড় সৃষ্টি হয়। এটি তাপমাত্রার পার্থক্য সৃষ্টি করার ফলে তাপমাত্রা একই স্থানে থাকেনা, তখন এই পার্থক্যের স্পন্দন দ্বারা বাতাসের মধ্যে উচ্চমাত্রার গতি উৎপন্ন হয়।

এছাড়াও অশান্ত সমুদ্র ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অন্যতম একটি কারন।

১৯৯১ সালের সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়!

নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এই ঘূর্ণিঝড়ের দ্বারা মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ঘূর্নিঝড়টি ১২-২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ২২৫ কিলোমিটার।

২৯-৩০ এপ্রিল ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় কে শতাব্দীর প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এটিতে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায়। তাছাড়া বেসরকারি সংগঠনের দাবি অনেক মাছধরার ট্রলার সাগরে ডুবে অনেক মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলেন।

এই ঘূণিঝড়ে প্রায় এক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক মানুষ আঘাতে মারা গিয়েছিলো। আবহাওয়া বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মিস্টার আলম বলেছিলো এই সাইক্লোনে অনেক বেশি পানি হয়েছিল। ২৭ ঘণ্টা আগে এই ঝড়ের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, তাই মানুষ কিছুটা সচেতন হতে পেরেছিলো।

চালায় এই সাইক্লোনটি ৬ ঘন্টা ধরে স্থলভাগে আসে এবং তাণ্ডব চালায়। তিনি আরো বলেন সাধারণত ২/৩ ঘণ্টার বেশি কোন সাইক্লোন থাকেনা, কিন্তু এই সাইক্লোনটি ছয়-ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী ছিল।

মিস্টার শাহ আলম জানিয়েছিলো, ২২৪ কিলোমিটার বেগে আসা এই ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের কারনে তেলের ট্যাংকার পর্যন্ত ওপরে উঠে গিয়েছিল।

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ভগীরথী!

বাংলাদেশে প্রায় সময় ঘূর্নিঝড় আঘাত করে। তারমধ্য ১৯৮৫ সালের ঘূর্ণিঝড় ছিল একটি প্রকৃতিক আপদ। এটি বাংলাদেশে ভয়ংকর রুপ ধারন করেছিলো যা অনেক কিছু ধ্বংস করেছিলো।

ভয়ংকর এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ছিল ভগীরথী। এই ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ১৩ নভেম্বর ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের খুলনা ও বরিশাল বিভাগে আঘাত হানে।

এই ঘূর্ণিঝড় ভগীরথী একটি শক্তিশালী সাইক্লোনিক ঘূর্ণিঝড় ছিল। যেটি শক্তিশালী উচ্চ বাতাসে পাওয়া গিয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় ভগীরথীতে ভারি বৃষ্টিপাত, তীব্র বাতাসের গতি,জ্বলন্ত প্রকাশ, উচ্চ মেঘমালা এবং সমুদ্রের উচ্চ মাত্রা ছিল।

এটি বাংলাদেশে অনেক ক্ষয়ক্ষতি সহ বিদ্যমান বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চমাত্রা বা টাইডল সারে উঠেছিল। যার কারণে অনেক জীবনধ্বংস, বাসপাতাল সংহার, আবাদি জমির ক্ষতি, পানিবন্যাস ও প্রযুক্তির অপচয় সহ মানুষের বিপুল ক্ষতি করে।

সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় সিডর!

সিডর ২০০৭ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত একটি প্রাকৃতিক আপদ ছিল। প্রাকৃতিক ঘূর্ণিঝড়টির সাথে একটি সুস্থিতিশীল সাইক্লোনিক ঘূর্ণিঝড় ছিলো। ১৫ নভেম্বর ২০০৭ সালে এই সিডর বাংলাদেশের খুলনা, বরিশাল ও পাটুয়াখালী বিভাগগুলিতে আঘাত হানিয়েছিল।

সিডর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ছিল। যেটি বাতাসের উচ্চ গতি, প্রাকৃতিক ঘর্ষণ ও তাপমাত্রার পার্থক্যের সঙ্গে মিলিত ছিল। এটি ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী বৃষ্টিপাত।

তীব্র বাতাসের গতিবেগ, টাইডল সারের বৃদ্ধি, ভয়াবহ উচ্চমাত্রার ঢেউ এবং উচ্চমাত্রায় সমুদ্রের নিম্নতা সহ বিভিন্ন ক্ষতির মুখে ফেলে। এছাড়াও অনেক এলাকায় বৃষ্টিপাত, সমুদ্রের জলপ্রপাত, পানিবন্যাস এর উপস্থিত ছিলো।

ঘূর্ণিঝড় আইলা বা সুপার সাইক্লোন!

ঘূর্ণিঝড় আইলা বা সুপার সিক্লোন হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের ঘূর্ণিঝড় যেটি আকাশে প্রবাহিত হয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড়গুলি অনেকাংশে শক্তিশালী হয়ে থাকে। এই ঘূর্ণিঝড় জীবন ধ্বংসকারী হতে পারে।

সাধারণত সুষম ও শুষ্ক হওয়ার জন্য আইলা খুবই ভয়ংকর আকার ধারণ করে, যেটি সাধারণত উন্নয়নশীল সমুদ্র এলাকাগুলিতে ঘটে থাকে।

আইলা বা সুপার সাউক্লোন সাধারনত দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর-পূর্ব এলাকাগুলিতে দেখা যায়। যেমন: বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড সহ আরো অনেক দেশ। সুপার সাইক্লোন সাধারণত শীতল সমদ্বীপিয় মহাসাগরে উৎপন্ন হয়।

এই সাইক্লোন বায়ু ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্যের ফলে উত্থিত হয়।সাইক্লোনটি সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে গতি লাভ করে।

ঘূণিঝড়ের পূর্ববর্তী তথ্য ও সচেতনতার সঠিক তথ্য আগামবার্তা পেতে এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব সম্পর্কে গনমাধ্যম খরব প্রচার করে থাকে।

এই সময় আপনজনদের সচেতন করা প্রয়োজন। বিভিন্ন ধরনের সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, ওয়েবসাইট ইত্যাদি থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

ঘূর্ণিঝড়ের আগামে বার্তা পেলে আপনার নিজের সুরক্ষা জন্য নিরাপদ একটি পর্যটন স্থানে চলে যাবেন। তা না হলে একটি নিরাপদ জনসমাবেশে থাকুন।

এই সময় বিভিন্ন সরকারী ও গোপনীয় সংস্থা যাতায়াত নীতিমালা মেনে চলবেন।

ঘূর্ণিঝড়ের আগাম বা বিপর্যয়ের ঘটনার সংবাদ পেলে নিরাপত্তামূলক স্থান অথাব সুরক্ষিত একটি আবাসিক স্থানে অবস্থান করতে হবে। এসময় অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করে।

ঘূর্নিঝড় সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর

১. ঘূর্ণিঝড় কী এবং এটি কীভাবে সৃষ্টি হয়?

ঘূর্ণিঝড় হলো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা সাধারণত উষ্ণ সাগর বা মহাসাগরের উপরে গঠিত হয়। উষ্ণ বায়ু ওপরে উঠে গেলে তার নিচে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, ফলে চারদিকের বাতাস দ্রুত ঘুরে এসে বিশাল ঘূর্ণি তৈরি করে। এই ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রকে “চোখ” বলা হয়, যা তুলনামূলক শান্ত থাকে।

২. ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নাম কী কী?

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘূর্ণিঝড়ের নাম ভিন্ন হয়। যেমন-

  • Cyclone (ভারত মহাসাগর অঞ্চল)
  • Hurricane (আমেরিকার আটলান্টিক মহাসাগর অঞ্চল)
  • Typhoon (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল)
    সবগুলিই মূলত একই প্রাকৃতিক ঘটনা, শুধু অঞ্চলের ভেদে নাম আলাদা।

৩. বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় সাধারণত কোন সময়ে বেশি হয়?

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বেশি ঘটে। এই সময়ে বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি ও শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৪. ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিকর প্রভাব কী কী?

ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি ছাড়াও ঘরবাড়ি, গাছপালা, ফসল ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়, যা মানুষের বসতি ও কৃষিজমি প্লাবিত করে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার সংকট দেখা দেয়।

৫. ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস কীভাবে জানা যায়?

বর্তমানে আবহাওয়া অধিদপ্তর, টেলিভিশন, রেডিও, মোবাইল এসএমএস ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা জানানো হয়। “ঘূর্ণিঝড় সংকেত নম্বর” দেখে জনগণ বুঝতে পারে কতটা বিপদের আশঙ্কা রয়েছে এবং কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

৬. ঘূর্ণিঝড়ের সময় ঘরে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়?

ঘূর্ণিঝড় চলাকালীন সময়ে নিরাপদ ভবন বা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হবে। জানালা ও দরজা ভালোভাবে বন্ধ রাখতে হবে এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করতে হবে। টিনের ছাদ বা দুর্বল ঘরে না থেকে পাকা স্থানে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

৭. ঘূর্ণিঝড়ের আগে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?

  • প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত করা
  • গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জলরোধী ব্যাগে রাখা
  • মোবাইল চার্জ করে রাখা
  • পরিবারের সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান জানানো
  • গবাদি পশু ও পোষা প্রাণীর নিরাপদ স্থান নির্ধারণ করা
    এই প্রস্তুতিগুলো প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে।

৮. ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে কী কী সতর্কতা মানা উচিত?

ঘূর্ণিঝড় শেষে বাইরে যাওয়ার আগে বিদ্যুৎ তার, গাছ বা ভাঙা দেয়ালের আশেপাশে সাবধান থাকতে হবে। দূষিত পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

৯. সরকার ও প্রশাসন ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কী ভূমিকা রাখে?

সরকার আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রদান, আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে সতর্ক করে এবং ঘূর্ণিঝড়ের পর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা করে।

১০. ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি থেকে বাঁচার দীর্ঘমেয়াদি উপায় কী?

  • উপকূলীয় এলাকায় মজবুত ঘরবাড়ি নির্মাণ
  • গাছ লাগিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা
  • জনগণকে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ প্রদান
  • স্যাটেলাইট ও প্রযুক্তির মাধ্যমে আগাম সতর্কতা উন্নত করা
    এই পদক্ষেপগুলো ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top