মানুষের জীবনে টাকার গুরুপ্ত অপরিসীম। টাকা ছাড়া দুনিয়া অনেক কঠিন হয়ে যায়। আমাদের প্রত্যহিক জীবনকে সুন্দর করে উপভোগ করার জন্য এছাড়া জীবন অতিবাহিত করার জন্য টাকার ছাড়া কোনো বিকল্প পদ্ধতি নেই।
টাকা দিয়ে হয় তো আমরা মানসিক শান্তি কিনতে পাবো না বা পাওয়া সম্ভব না। কিন্তু চাইলে এই টাকা আমাদের মনে প্রশান্তিে এনে দেয়।
টাকা ছাড়া জীবন চলে না, যদি আপনার কাছে টাকা থাকে সমাজের আপনি সম্মান পাবেন, আর যদি টাকা না থাকে আপনাকে কেউ সঠিক মূল্যায়ন করবে না।
কিন্তু এই টাকা নিয়ে চলতে গেলে আমাদের সাবধান হতে হবে। কেননা এই দুনিয়ায় তে বর্তমানে এই টাকার আসল নকল রয়েছে। অমাদের এই আসল নকল টাকা সম্পর্কে সঠিক ধারনা থাকতে হবে।

কিভাবে জাল টাকা চিনবেন?
আপনি কিভাবে বুঝতে পারবেন আপনার হাতের টাকাগুলো আসল নাকি নকল।
আমাদের দেশে বিশেষ করে রমজান মাসে ও কোরবানী ঈদ এ বেশি টাকা আদান-প্রদান হয়ে থাকে। এই সময় মানুষ জন তাদের প্রিয় মানুষদের জন্য কেনাকাটা করেন ও অন্যান্য কাজে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করে থাকেন।
এই সময় টাকা লেনদেন করার সময় অনেক ক্ষেত্রে জাল টাকা চলে আসে। গ্রাহকের কাছে আসা এই টাকা গ্রাহক বুঝতেই পারেন না। ফলে অনেক সময় আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
যারা জাল টাকার কারবারি করে, তারা এই সময় অনেক জাল টাকা বাজারে ছড়িয়ে দেয়। তারা বিশেষ করে নতুন টাকার নোট এর মধ্যে জাল টাকা ঢুকিয়ে দেয়। যাতে কেউ বুঝতে না পারে।
আমাদের এই জাল টাকার নোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকে না, তাই অনেক সময় প্রতারিত হয়েও অনেকে টের পায় না।
বড় অংকের টাকা বিশেষ করে ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা, ও ১০০০ টাকার নোট এর মধ্যে জাল টাকা পাওয়া যায়। যদি টাকার সমস্যা মনে হয় তবে টাকার নিরাপত্তা সুতা, লোগো ও ছাপ ইত্যাদি এসব এর দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার।
আসল টাকার মধ্যে দুই পাশে দুই প্রকার ডিজাইন থাকে। আর মাঝখানে লেখা, মূল্যমান ইত্যাদি থাকবে।
আসল টাকায় প্রত্যেকটি নোট এ আলাদা আলাদা কিছু বর্ন বা অক্ষর থাকবে। আর যদি দেখা যায় প্রায় সব গুলোতে একই লেখা থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সেটি নকল টাকা।
বাংলাদেশী সব টাকার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবেন বঙ্গবন্ধুর ছাপ আছে। আর সেটি যদি কোনো নোট পাওয়া না যায়, তাহলে সেটি নকল টাকা বলে গণ্য হবে।
বিশেষ সময়ে আপনার টাকার পরিমাণ যদি বেশি হয়, তাহলে টাকা পরীক্ষা করার জন্য মেশিন আছে। আপনি সেটিতে টাকা পরীক্ষা করতে পারেন। যদি আপনার আসল টাকা হয়, তাহলে টাকা বের হয়ে আসবে।
আর যদি নকল টাকা হয়, তাহলে টাকাটি মেশিনে আটকে যাবে। আর মেশিনে বিপ সাউন্ড হবে।
জাল টাকা চেনার উপায়
জাল টাকার নোট এর ছাপ গুলো অনেক নিম্ন মানের হয়। আর আসল টাকার নোটে বাঘের মাথা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম এর স্পষ্ট জলছাপ রয়েছে। আলোর বিপরীতে লক্ষ্য করলে তা দেখা যায় ।
এছাড়াও প্রত্যেক মূল্যমান নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো সম্বলিত নিরাপত্তা সুতা রয়েছে। এই নোট এ মূল্যমান ও বাংলাদেশ ব্যাংক এর লোগো নিরাপত্তা সুতা দ্বরা ৪টি স্থানে মুদ্রিত থাকে।
টাকার মধ্যে এই নিরাপত্তা সুতা অনেক মজবুত থাকে। যা টাকার সঙ্গে এমনভাবে সেঁটে দেওয়া থাকে, এটি নখের আঁচড়ে অথবা মুচড়িয়ে কোনোভাবেই এই সুতা উঠানো সম্ভব নয়। নকল নোটের মধ্য সুতাটি এতো নিখুঁত ভাবে দিতে পারেনা। এটি দেখলেই বুঝতে পারবেন। তাই আসল নকল টাকা চিনতে এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

টাকা একটি মূল্যবান সম্পদ। অনেক সময় আপনি এই টাকা হাতে পেয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে পারেন। কারন মানুষ যার হাতে জাল টাকা দেখে, তাকে অপরাধী ভাবে। তাই টাকা লেনদেন এর সময় বিশেষ দিক গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। এসব ছাড়াও জাল টাকা চেনার আরো অনেক পদ্ধতি আছে।
সচরাচর আমরা যে টাকা লেনদেন করে থাকি, সেই টাকা থেকে জাল টাকা একটু আলাদা মনে হবে। তাই সচেতন থাকতে হবে। আসুন আমরা নিজে সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন করি।
সচেতন থাকলে জাল টাকার বিস্তার হবে না। অসাধুরা এই কাজ করতে ভয় পাবে। ফলে আমরা বিড়ম্বনার হাত থেকে রেহাই পাবো।
প্রশ্নোত্তর
১. জাল টাকার সাধারণ লক্ষণ কী কী?
উত্তর: জাল টাকার সাধারণ লক্ষণে থাকে মলিন অক্ষর, অসমান বা ব্লারড প্রিন্ট, কাগজের অস্বাভাবিক নরম বা প্লাস্টিকের মতো ভাব, এবং নিরাপত্তা থ্রেড বা হologram–এর অভাব। যদি নোটের রঙ, সাইজ বা অনুভব সন্দেহজনক হয়, সাবধান হওয়া উচিত।
২. নোটের জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) কিভাবে চেক করবেন?
উত্তর: নোটকে হালকা উৎসরের দিকে ধরে দেখলে মূল ব্যক্তির চিত্র বা নির্দিষ্ট চিহ্নের ওয়াটারমার্ক দেখা যায়। জাল নোটের ওয়াটারমার্ক অস্পষ্ট বা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকতে পারে। আলোর সামনে জোর করে নোট নৌচালে ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।
৩. নিরাপত্তা থ্রেড (security thread) কী এবং কীভাবে নিশ্চিত করবেন?
উত্তর: বেশিরভাগ দেশের নোটে কাগজের ভেতর একটি পাতলা ধাতব বা প্লাস্টিক থ্রেড থাকে, যা হালকা দিয়ে দেখলে দেখা যায়। অনেক নোটে এই থ্রেডে লেখাও থাকে। থ্রেড ভাঙা বা কেবল লেপে দেওয়া থাকলে সন্দেহজনক- এই ক্ষেত্রে নোটটি যাচাই করুন।
৪. মাইক্রোপ্রিন্টিং (অনুজ্জ্বল ছোট টেক্সট) কীভাবে দেখা যায়?
উত্তর: নোটের বিশেষ জায়গায় খুব ছোট আকারের লেখা থাকে যাকে নাকচে চোখে বোঝা যায় না; লুপ বা লেন্স দিয়ে দেখা গেলে স্পষ্ট হয়। জাল নোটে এই মাইক্রোপ্রিন্ট অস্পষ্ট, ছিন্ন বা অনুপস্থিত থাকে। অবশ্যই লুপ ব্যবহার করে চেক করুন।
৫. টেক্সচার ও প্রিন্টিং কিভাবে যাচাই করবেন?
উত্তর: মূল নোটে ইন্টাগ্লিও প্রিন্টিং থাকে- স্পর্শ করলে নোটের উপর উঠে থাকা রিলিফ (বড় অক্ষর বা ছবির ভাঁজ) অনুভব করা যায়। জাল নোটে সাধারণত মসৃণ প্রিন্টিং থাকে। নোটটি হাতে নিয়ে নরম/কঠিন এবং ছাপের উচ্চতা পরীক্ষা করুন।
৬. রঙ বদলানো ইঙ্ক (color-shifting ink) চেক করবেন কীভাবে?
উত্তর: অনেক আধুনিক নোটের নির্দিষ্ট অংশ ঘোরালে রঙ বদলায় (উৎসে-ঘোরালে আলোকের ওপর নির্ভর করে)। অনুভব/দেখা থেকে যদি অংশটি রঙ বদলায় না বা অস্পষ্ট হয়, তাহলে নোট সন্দেহজনক হতে পারে। শান্তভাবে ঘোরিয়ে পরীক্ষা করুন।
৭. হোলোগ্রাম বা ল্যামিনেটেড হাইলাইটার কীভাবে যাচাই করবেন?
উত্তর: হোলোগ্রাম স্টিকার বা ল্যামিনেটেড অংশ আলোতে ঝলমল করে এবং কোণ পরিবর্তনে ভিন্ন আকার/রঙ দেখায়। জাল নোটে এই হোলোগ্রাম সস্তা সিল্ভার/প্রিন্ট হতে পারে বা পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকে। ভালভাবে কোণ বদল করে দেখুন।
৮. নোটের সেরিয়াল নম্বর ও মডেল মিল আছে কিনা কীভাবে দেখবেন?
উত্তর: নোটে থাকা সেরিয়াল নম্বরটি অদ্ভুতভাবে অসমান, একই নম্বর পুনরাবৃত্তি বা মুদ্রণের ত্রুটি থাকলে সন্দেহজনক। পাশাপাশি একই সিরিজের নোটের ডিজাইন-আইটেমগুলো মিলছে কি না তা তুলনা করুন। প্রয়োজন হলে ব্যাঙ্কে জाँच করুন।
৯. ইউভি লাইট বা নোট-মেশিন ব্যবহার করে কিভাবে পরীক্ষা করবেন?
উত্তর: অনেক নোটে আধুনিক ইউভি-রোধী সিকিউরিটি লক্ষণ থাকে- ইউভি লাইটে নানান চিহ্ন জ্বলে ওঠে। দোকান বা ব্যাঙ্কগুলোর নোট চেকিং মেশিনও ব্যবহার করলে দ্রুত সনাক্ত করা যায়। ব্যক্তিগতভাবে ইউভি লাইট বা লুপ থাকলে সেটি ব্যবহার করুন।
১০. সন্দেহ হলে কী করবেন- আইন কি বলে?
উত্তর: যদি সন্দেহ হয়, কোন ব্যক্তিকে কিভাবে প্রতিফের করবেন তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে- সে ক্ষেত্রে নোট গ্রহণ করবেন না, পলিস/ব্যাংকে রিপোর্ট করুন এবং নোটটি বিক্রেতার কাছে ফিরিয়ে দেবেন না। সচেতন থাকুন: জাল টাকাসহ অবৈধ আচরণ অপরাধ-সতর্কতা ও শুদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।









