জমির পরিমাপ শতাংশ হিসাব বা জমির পরিমাপ করার নিয়ম বেশিরভাগ মানুষ জানে না।
জমি আমাদের জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি।
আমরা সকলে আমাদের এই সম্পত্তিকে সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষনের চেষ্টা করি ।
আমাদের জীবনে অনেক সময় জমি জায়গা কেনা বেচা ,ভাগ-বণ্ঠন করতে হয় । যার ফলে জমি পরিমাপ করা প্রয়োজন হয়ে থাকে ।
এ ক্ষেত্রে আমাদের কে অনেকটা অন্যের উপর নির্ভর করতে হয় ।
তাছাড়া অনেক সময় চাষাবাদের ক্ষেত্রে জমির পরিমাপ সঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন হয় ।
এ ক্ষেত্রে ও আমাদের অন্যের উপর নির্ভর করতে হয় ।
তাই আমাদের অনেক সময় ধোকায় পড়ার সম্ভাবনা থকে।
তবে আমাদের যদি জমির পরিমাপ সম্পর্কে কিছুটা ধারনা থাকে তাহলে আমরা কোন ধোকায় পড়বো না ।
আজ আমি আমার এই আর্টকেলে আপনাদের জন্য আলোচনা করবো জমির পরিমাপ শতাংশ হিসাব বা জমির পরিমাপ করার নিয়ম সম্পর্কে।
এ ছাড়াও আপনি ওয়ারিশ সম্পদ কিভাবে বন্টন করবেন সে আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে ওয়ারিশ সম্পদ বন্টনের আইন সম্পর্কে জানুন এই পোষ্ট টি পড়তে পারেন ।
জমির পরিমাপ করার পদ্ধতি জানুন বা জমি মাপার পদ্ধতি
বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পদ্ধতিতে জমি পবিমাপ করা হয় । আবার একই দেশে বিভিন্ন অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন রকম পদ্ধতিতে জমি পরিমাপ করতে দেখা যায় ।
বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পদ্ধতিতে জমি পবিমাপ করা হলেও জমি পরিমাপের বেসিক যে নিয়ম তা একই হয়ে থাকে ।
এই বেসিক নিয়ম গুলো ধরে বিভিন্ন এককের সাথে তুলনা করে জমি বিভিন্ন ভাবে পরিমাপ করা হয় ।
তবে বিভিন্ন অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন পরিমাপ পদ্ধতি চালু থাকলেও সরকারি ভাবে দুই প্রকার পদ্ধতিতে জমি পরিমাপ করা হয় ।
যেমন শতাংশের হিসার এবং কাঠার হিসাব । এই দুই পদ্ধতিতেই জমির দাপ্তরিক কাগজ পত্র, দলিল দস্তাবেজ ইত্যাদি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করা হয়।
শতাংশ হল একশত ভাগের এক ভাগ যা অনেকে ১ শতক জমি বলে থাকে ।
অন্যদিকে কাঠা হল বিঘার একক আবার বিঘার একক হল একর।
২০ কাঠা জমি সমান এক বিঘা আর তিন বিঘা সমান এক একর জমি ।
জমির ক্ষেত্রে এই হিসাব টি সার্বজন স্বীকৃত এবং “প্রমিত মান” (Standard Measurement) হিসাবে সরকারিভাবে অনুমোদিত।
আরও পড়ুন- নামজারি খতিয়ান চেক করার নিয়ম বা খারিজ চেক করার নিয়ম
জমির মাপ বা জমির পরিমাপ করার নিয়ম জানুন
আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে জমি পরিমাপ করা হয়ে থাকে।
এখন আমরা জানবো বাংলাদেশে কি কি নিয়মে জমি পরিমাপ করা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে সাধারণত দুই ভাবে জমি পরিমাপ করা হয়ে থাকে,যথা-
- চেইন (গান্টার) পদ্ধতি
- ফিতা পদ্ধতি
সরকারি ভাবে যখন জমি পরিমাপ করা হয় তখন তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চেইন পদ্ধতিতে করা হয়।
এই পদ্ধতি সাধারণত জমির পরিমাণ যখন বেশি হয় তখন প্রয়োগ করা হয়।
আবার অপেক্ষাকৃত কম অথবা ছোট ব্যক্তিগত জমি আমিন বা সার্ভেয়ার এর মাধ্যমে পরিমাপ করতে ফিতা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
জমির পরিমাপ হিসাব বা জমির পরিমাপ শতাংশ হিসাব।
পরিমাপক বলতে আমরা সাধারণত পরিমাপ প্রকাশের মাধ্যম কে বুঝি। জমি পরিমাপের ক্ষেত্রে ও কয়েকটি পরিমাপক রয়েছে।
বাংলাদেশে জমি পরিমাপ হিসাব বা জমি মাপার পদ্ধতি সাধারণত ৪ ভাবে করা হয়ে থাকে যেমন-
- শতাংশ বা শতক
- কাঠা
- বিঘা
- একর
জমি পরিমাপ করার সূত্র বা জমি পরিমাপের সূত্র।
জমি পরিমাপ করার জন্য আপনাকে আগে বিভিন্ন আকৃতির জমি পরিমাপ করার সূত্র জানতে হবে।
কারণ এক এক আকৃতির জমি পরিমাপ করার সূত্র বা নিয়ম এক এক রকম।
তবে আপনি যে সূত্র ব্যবহার করেন আপনাকে আগে জমির মোট ক্ষেত্রফল বের করতে হবে।
আর জমির আকার বিভিন্ন রকম হতে পারে। এই আকারের উপর ভিত্তি করে ক্ষেত্রফল বের করার নিয়ম বিভিন্ন রকম হয়।
আয়াতকার এবং বর্গাকৃতির জমির পরিমাপ বের করার নিয়ম বা জমির হিসাব বের করার নিয়ম

চেইন বা গান্টার শিকল পদ্ধতিতে জমির পরিমাপ গুলো দেখানো হলো।
ক্ষেত্রফল = বাহু X বাহু ( দুই বাহু মিলে ৮০ )
= ৮০ x ৮০
= ৬৪০০ বর্গ লিংক।
আমরা জানি ১০০০ বর্গ লিংক = ১ শতাংশ।
অতএব ১ বর্গ লিংক = ১ / ১০০০ শতাংশ।
৬৪০০ বর্গ লিংক = ৬৪০০/১০০০ শতাংশ।
= ৬.৪ শতাংশ।
এখন একটি আয়াতকার জমির পরিমাপের উদাহরণ দেওয়া হল ।

আয়াতকার জমির দুই পাশের বাহুর দৈর্ঘ্য ৬০ + ৬০ = ১২০ লিংক।
আর আয়াতকার জমির দুই পাশের বাহুর প্রস্থ ৪০ + ৪০ = ৮০ লিংক।
তাহলে
ক্ষেত্রফল = ১২০ * ৮০ বর্গ লিংক।
= ৯৬০০ বর্গ লিংক।
আমরা জানি ১০০০ বর্গ লিংক = ১ শতাংশ।
অতএব ১ বর্গ লিংক = ১ / ১০০০ শতাংশ।
৯৬০০ বর্গ লিংক = ৯৬০০/১০০০ শতাংশ।
= ৯.৬ শতাংশ।
তিন কোণা জমি পরিমাপ করার নিয়ম বা জমির হিসাব বের করার নিয়ম

এখানে A = ৪০ ফুট B= ৫০ ফুট C= ৬০ ফুট ।
এখন আমাদের অর্ধ পরিসীমা বের করতে হবে ।
আমরা জানি অর্ধ পরিসীমা S = A + B + C / 2 ফুট।
= ৪০ + ৫০+৬০/২ফুট ।
= ১৫০/২ফুট ।
= ৭৫ফুট ।
ক্ষেত্রফল = √s*(S-A)*(S-B)*(S-C)
= √ 75*(75-40)*(75-50)*(75-60)
= √ 75*35*25*15
= √ 984375
= 992.16 বর্গ ফুট ।
বর্গ ফুট থেকে শতাংশ বের করার সুত্র
বর্গ ফুট ÷ ৪৩৫.৬০ শতাংশ।
= ( ৯৯২.১৬ ÷ ৪৩৫.৬০ ) শতাংশ।
= ২.২৭৭৬ শতাংশ।
বা ২.২৮ শতাংশ।
অসম আকৃতির জমি পরিমাপের সূত্র ।

প্রথমে আমাদের অসম আকার বিশিষ্ট জমির মাঝামাঝি শির্ষ দুই প্রান্তের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করতে হবে।
মনে করি জমির মাঝামাঝি শির্ষ দুই প্রান্তের দৈর্ঘ্য AB = ৬০ ফুট । এখন আপনার জমির আকার অনুযায়ী কয়েক টি ভাগে ভাগ করবেন ।
ছবি অনুযায়ী আমি জমি কে ৬ ভাগে ভাগ করলাম।
এখন আমার প্রতিটি ভাগের জমির দৈর্ঘ্য পরিমাপ করতে হবে।
তাহলে ধরে নিলাম AC = ১৫ ফুট CD = ১০ ফুট DE = ১৫ ফুট EF = ২৫ ফুট FG = ২০ ফুট GB = ১৫ ফুট ।
বিভক্তকারী রেখাগুলোর মোট দৈর্ঘ্য = ১৫+১০+১৫+২৫+২০ = ৮৫ ফুট।
ক্ষেত্রফল = বিভক্তকারী রেখাগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব × বিভক্তকারী রেখাগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ।
= ১০ × ৮৫ বর্গ ফুট ।
= ৮৫০ বর্গ ফুট ।
আমরা জানি বর্গ ফুট থেকে শতাংশ বের করার সুত্র
বর্গ ফুট ÷ ৪৩৫.৬০ শতাংশ।
= ৮৫০ ÷ ৪৩৫.৬০ শতাংশ।
= ১.৯৫ শতাংশ।
জমির পরিমাপ লিংক চেইন বা গান্টার শিকল পদ্ধতি তে জমির হিসাব বের করার নিয়ম
জমির পরিমাপ শতাংশ হিসাব বা জমির পরিমাপ করার ক্ষেত্রে অতি পরিচিত একটি পদ্ধতি হলো এই চেইন বা গান্টার শিকল পদ্ধতি।
জমি পরিমাপ সঠিকভাবে করতে ইংরেজ বিজ্ঞানী এডমন্ড গান্টা যে পদ্ধতি আবিস্কার করেন তাকে গান্টার শিকল বলা হয়ে থাকে।
ইস্পাতের তৈরী এই শিকলকে তার নাম অনুসারে গান্টার শিকল রাখা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ সহ অনেক দেশে এই পদ্ধতি অনেক জনপ্রিয়।
একটি গান্টার শিকল এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২০.৩১ মিটার বা ৬৬ ফুট। একটি শিকল ১০০ ভাগে বিভক্ত থাকে।
আর এই প্রতিটি ভাগ কে বলা হয় লিংক বা জরিপ বা কড়ি। প্রতিটি লিংক এর দৈর্ঘ্য ৭.৯২ ইঞ্চি।
চেইন বা শিকলের একক হচ্ছে লিংক। সে অনুসারে হিসাবগুলো হলো,
১ লিংক = ৭.৯ ইঞ্চি
৫ লিংক = ৩ ফুট ৩.৬ ইঞ্চি
১০ লিংক = ৬ ফুট ৭.২ ইঞ্চি
১৫ লিংক = ৯ ফুট ১০.৮ ইঞ্চি
২০ লিংক = ১৩ ফুট ২.৪ ইঞ্চি
২৫ লিংক = ১৬ ফুট ৬.০ ইঞ্চি
৪০ লিংক = ২৬ ফুট ৪.৮ ইঞ্চি
৫০ লিংক = ৩৩ ফুট
১০০ লিংক = ৬৬ ফুট
১০০ লিংক = ১ গান্টার শিকল বা ১ চেইন
১০০০ বর্গলিংক = এক শতক
গান্টার শিকলে ১০ লিংক বা ৭৯.২ ইঞ্চি পর নস বা ফুলি স্থাপন করা যায়।
২০ লিংক বা ১৫৮.৪ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয় নস বা ফুলি। ৩০ লিংক বা ২৩৭.৩ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয় নস বা ফুলি। ৪০ লিংক বা ৩১৬.৮ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয় নস বা ফুলি। ৫০ লিংক বা ৩৯৬.০ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয় নস বা ফুলি। ৮০ গান্টার বা ১৭৬০ গজ পর স্থাপিত হয় মাইল ষ্টোন ।
জমি পরিমাপে ফিতা ( বর্গ গজ , বর্গ ফুট ) পদ্ধতি
জমি পরিমাপের আর একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো ফিতা পদ্ধতি । ফিতা দিয়ে জমি পরিমাপ করা হয় বলে একে ফিতা পদ্ধতি বলা হয়।
এ ক্ষেত্রেও আপনাকে আগে জমির মোট ক্ষেত্রফল বের করতে হয় । আর সে হিসাবে জমির শতক বা একর ইত্যাদি বের করতে হয় ।
৪৩৫৬০ বর্গফুট বা ৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর ।
১৪৫২০ বর্গফুট বা ১৬১৩ বর্গগজ = ১ বিঘা ।
৭২১.৪৬ বর্গফুট বা ৮০.১৬ বর্গগজ = ১ কাঠা ।
৪৫.০৯ বর্গফুট বা ৫.০১ বর্গগজ = ১ ছটাক ।
১০.৭৬ বর্গফুট বা ১.১৯৬ বর্গগজ = ১ বর্গমিটার ।
কাঠা, বিঘা, একর অনুযায়ী জমি মাপার হিসাব
১.৬৫ শতাংশ বা ১৬ ছটাক = ১ কাঠা ।
৩৩ শতাংশ বা ২০ কাঠা = ১ বিঘা ।
১০০ শতাংশ বা ৬০.৬ কাঠা বা ৩.০৩ বিঘা = ৩.০৩ বিঘা ।
ইঞ্চি, ফুট, গজ, মাইল, মাইক্রোমিটার, মিলিমিটার, সেন্টিমিটার, মিটার,কিলোমিটার এ গুলোর ক্রমধারা
২.৫৪ সেন্টিমিটার = ১ ইঞ্চি ।
১২ ইঞ্চি = ১ ফুট।
৩ ফুট = ১ গজ ।
১.৬ কিলোমিটার বা ১৭৬০ গজ = ১ মাইল ।
১০০০ ন্যানোমিটার = ১ মাইক্রোমিটার ।
১০০০ মাইক্রোমিটার = ১ মিলিমিটার ।
১০ মিলিমিটার = ১ সেন্টিমিটার ।
১০০ সেন্টিমিটার = ১ মিটার ।
১০৯৩.৬১ গজ বা ১০০০ মিটার = ১ কিলোমিটার ।
ছটাক, বিঘা ও কাঠার হিসাব
৪৫ বর্গফুট বা ২০ গন্ডা = ১ ছটাক ।
৭২০ বর্গফুট বা ১৬ ছটাক = ১ কাঠা ।
১৪৪০০ বর্গফুট বা ৩৩০০০ বর্গলিংক বা ২০ কাঠা বা ৬৪০০ বর্গহাত = ১ বিঘা ।
৭.৪৭ বিঘা বা ২.৪৭ একর = ১ হেক্টর ।
কানি পরিমাপের হিসাব
বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে কানির হিসাবে জমির হিসাব করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ও জমির মূল হিসাব সঠিক থাকে যেমন শতাংশ , একর ইত্যাদি ।
কানি দুই প্রকারের হয়ে থাকে , যথা-
১। কাচ্চা কানি
২। সাই কানি
কাচ্চা কানিঃ ৪০ শতকে এক কাচ্চা কানি বলা হয় । কাচ্চা কানি ৪০ শতাংশে হওয়ার কারণে একে ৪০ শতকের কানিও বলা হয়।
সাই কানিঃ অঞ্চলভেদে এটির ভিন্নতা রয়েছে। কোথাও ১২০ শতকে ১ সাই কানি ধরা হয় আবার কোথাও ১৬০ শতকে ১ সাই কানি ধরা হয়।
জমির পরিমাপ গন্ডা ও কানি হিসাব
২১৬ বর্গফুট = ১ কড়া ।
৮৪৬ বর্গফুট বা ৪ কড়া = ১ গন্ডা ।
৪০ বর্গ লিংক বা ১৬১৯ বর্গ মিটার বা ১৯৩৬ বর্গ গজ বা ১৭২৮০ বর্গ ফুট = ১ কানি।
৩ বিঘা ৮ ছটাক বা ৪০৪৭ বর্গমিটার বা ১০০ শতক বা ১০ বর্গ চেইন বা ২ কানি ১০ গন্ডা = ১ একর ।
বিভিন্ন পরিমাপের সাথে এক একর জমির হিসাবের সম্পর্ক বা জমির হিসাব
জমি পরিমাপের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হিসাবে এককের পার্থক্য থাকলেও বড় জমির ক্ষেত্রে একর এর হিসাব খুব গুরুত্ব পূর্ণ ।
এখন আমরা জানব একরের সাথে বিভিন্ন হিসাবের তুলনা । যা আমাদের জমির বিভিন্ন হিসাব বুঝতে সাহায্য করবে । যেমন
১ একর = ১০০ শতক বা ১০ বর্গ চেইন বা ৬০.০৬ কাঠা (৩৩ শতাংশে এক বিঘা হিসাবে) বা ৩ বিঘা ৯ ছটাক বা ২ কানি ১০ গন্ডা (৪০ শতাংশে কানি ও ২ শতাংশে গন্ডা ধরে) বা ৪০৪৭ বর্গ মিটার বা ৪৮৪০ ৪০ বর্গ গজ বা ১৯৩৬০ বর্গ হাত বা ৪৩৫৬০ বর্গ ফুট বা ১০০০০০ বর্গ লিংক।
বিভিন্ন পরিমাপের সাথে ১ বিঘা জমির হিসাবের সম্পর্ক
জমি পরিমাপের ক্ষেত্রে বিঘা শব্দ টি একটি অতি পরিচিত শব্দ ।
আমাদের দেশের কারও জমি থাকুক বা না থাকুক সকলের বিঘা শব্দটির সাথে পরিচিতি রয়েছে
তাই বিঘার সাথে বিভিন্ন হিসাবের সম্পর্ক জানা থাকলে সহজেই আমরা যে কোন জমির পরিমাপ সহজে বুঝতে পারব ।
নিচে এক বিঘা ভূমির সাথে বিভিন্ন পরিমাপের সাথে তুলনা বা সম্পর্ক দেওয়া হলো-
১ বিঘা = ২০ কাঠা = ৩৩ শতাংশ = ১৬০০ বর্গগজ = ৬৪০০ বর্গহাত = ১৪৪০০ বর্গফুট = ৩৩০০০ বর্গলিংক = ১৬ গন্ডা, ২ কড়া, ২ ক্রান্তি ।
বিভিন্ন পরিমাপের সাথে এক শতক জমির পরিমাপ হিসাবের সম্পর্ক
জায়গা জমির ক্ষেত্রে শতাংশ বা শতক শব্দ টি একটি অতি পরিচিত শব্দ ।
যে স্থানে যেভাবেই জমি পরিমাপ করুক না কেন শতাংশের কোন পরিবর্তন হয় না ।
এখন আমরা জানব শতাংশের সাথে বিভিন্ন হিসাবের তুলনা । যা আমাদের জমির বিভিন্ন হিসাব বুঝতে সাহায্য করবে । যেমন
এক শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট বা ৪৮.৪০ বর্গ গজ বা ৪০.৪৬ বর্গমিটার = ১৯৪.৬০ ৬০ বর্গ হাত বা ১০০০ বর্গ লিংক । আবার ১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ ( ৩৩ এর মাপে)
১ কাঠা = ১.৫০ শতাংশ ( ৩০ এর মাপে)
জমির পরিমাপ শতাংশ হিসাব বা জমির পরিমাপ শতাংশ এর একক জানুন
কোয়ার্টার শতাংশ = ০.০০২৫ একর ।
আধা শতাংশ = ০.০০৫ একর ।
পৌনে এক শতাংশ = ০.০০৭৫ একর ।
এক শতাংশ = ০.০১ একর ।
সোয়া শতাংশ = ০.০১২৫ একর ।
দেড় শতাংশ = ০.০১৫০ একর ।
পৌনে দুই শতাংশ = ০.০১৭৫ একর ।
দুই শতাংশ = ০.০২ একর ।
দশ শতাংশ = ০.১০ একর ।
১০০ শতাংশ বা ১ একর = ১.০ একর ।
জমির পরিমাপ ক্যালকুলেটর অনলাইন এ পাওয়া যায় কি ?
সহজে জমি পরিমাপ করতে জমির পরিমাপ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন যা প্লে ষ্টোরে পাবেন।
আবার অনলাইনে জমি পরিমাপ হিসার করতে জমির পরিমাপ ক্যালকুলেটর এই লিংক এ প্রবেশ করতে পারেন ।
১ একর জমি কত কানি হয়
১ একর সমান ২ কানি ১০ গুন্ডা , এই হিসাব ৪০ শতকে ১ কানি অনুসারে ।
১ বিঘা সমান কত কানি হয় ?
৩৩ শতকে ১ বিঘা হিসাবে – ১ বিঘা সমান ০.৮২৫ কানি ।
১ একর সমান কত কানি হয় ?
এক একর সমান ২.৫ কানি ।
১ একর সমান কত বিঘা হয় ?
এক একর সমান ৩.০৩০ বিঘা ।
এক বিঘা সমান কত শতক বা কত শতকে এক বিঘা ?
৩৩ শতকে এক বিঘা ।
১ হেক্টর কত বিঘা 1 হেক্টর কত বিঘা ?
১ হেক্টর সমান ৭.৪৭৪৯ বিঘা
১ বিঘা সমান কত কাঠা ?
এক বিঘা সমান ২০ কাঠা ।
শেষ কথা
এতক্ষণ আলোচনা করা হলো জমির পরিমাপ শতাংশ হিসাব বা জমির পরিমাপ করার নিয়ম সম্পর্কে ।
সরাসরি জমি পরিমাপ না করতে পারলেও আমিন দ্বারা জমি পরিমাপ করার সময় আপনি এটা বুঝতে পারবেন কোন প্রকার ধোকা বা ভূল ভ্রান্তি হচ্ছে কি না ।
তাই আমি মনে করি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়লে আপনাদের উপকারে লাগবে ।
আমার লেখায় যদি কোন প্রকার ভূল হয়ে থাকে তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই জানাবেন ।









